Custom Search

Monday, October 10, 2016

একটি সত্য কাহিনী............!!

ভাই মাফ চাই, ছাইড়া দেন ভাই,
ভাই দুইটা পায়ে ধরি ভাই, আর মাইরেন না,
ভাই আমি রোজা রাখছি, আর আমুনা ভাই।।।
রোজার কথা শুনে থেমে গেলো দু'জন
বাড়ি কই তোর??
-- কলাবাগান বস্তিতে
তুই মসজিদ থেকা চুরি করস?
তোর কলিজা কত বড়?
পাশের লোকটা বললো ভাই থামলেন কেন?
দেন আর কয়ডা, রোজার মাসে চুরি কইরা বেড়ায়, সালারে লাত্থা, তুই চুরি করস আবার কিসের রোজা রাখস রে?
মিছাকথার জায়গা পাস না?
এই বলেই কান বর়াবর সজোরে আরেকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
ছেলেটা গালে হাত দিয়ে দেয়াল ঘেসে বসে রইলো, কান্না আর হই হুল্লার শব্দে ইমাম দোতলা থেকে নেমে এলো, দেখলো মসজিদের আঙিনায় লোক জড়ো হয়ে আছে, আজকে এলাকার মসজিদে ইফতার পার্টি, সেই আয়োজন চলছিলো মসজিদে।
ইমাম এগিয়ে গিয়ে বললো- কি হইছে এখানে?
লোকেরা বলা শুরু করলো হুজুর চোর ধরছি!
ছেচড়া চোর!
ইমাম সাহেব এগিয়ে গিয়ে দেখলো ১২-১৩ বয়সের এক ছেলে দেয়াল ঘেসে বসে আছে, ছেলেটির পুরো গাল চোখের পানিতে ভেসে গেছে, গায়ের রঙ কালো হলেও আঘাতের দাগ রেখা গুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
ইমাম সামনে আসাতে ছেলেটি আরও ভয় পেয়ে গেলো। এবার আর তার রেহায় নাই, হাত পা কাঁপতেছে।
-কি চুরে করছে?
দেখি?
পাশে লোকটি পলিথিনের পোটলা আগায় দিয়ে বললো- দেখেন হুজুর, দেখেন,, ইফতারের আয়োজন করতেছে, এই ফাঁকে শালায় পলিথিনে ভইরা লইছে। এক্কেরে হাতেনাতে ধরছি!
হুজুর পলিথিন হাতে নিয়ে দেখলো আধা কেজির মত জিলাপি, ৬ টা আপেল, আর কিছু খেজুর ভিতরে ছিলো।
হুজুর বললো- তাই বইলা এভাবে গণপিটুনি দিছো কেন?
এইটা কেমন বিচার?
বাচ্চারে কেউ এভাবে মারে নাকি?
এবার লোক জনের উত্তেজনা একটু থেমে গেলো।
হুজুর ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করে- তর বাপ কি করে?
ছেলেটা কিছুটা সস্থি ফিরে পেলো। বললো- সাইকল ঠিক করতো, বাপে অসুখ তাই অহন কাম করে না। হুজুর আমারে ছাইড়াদেন। আমি আগে কুনোদিন চুরি করি নাই। কয়েকটা বাসায় হাত পাইতা একটা দানাও সাহায্য পাই নাই। পরে দেহি মসজিদে খাবার। বাড়িতে নিবার জন্যে তুইলা নিছি। ভুল হইয়া গেছে আমারে মাফ কইরাদেন।
পাশ থেকে লোকগুলো বলতেছে, এগুলা সব মিথ্যাকথা, ধরা খাইয়া এখন ভদ্র সাজে।
হুজুর বললো- ইফতার শেষ হোক, সত্য মিথ্যা দেখে ওর বাপের কাছে জানিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হবে। ছেলেটাকে কেউ পানি দেও, ও অনেক হাঁপায়তেছে।
একজন পানির বোতল আগায় দেয়। ছেলেটি উত্তর দেয়- আমি রোজা!
ইমাম সাহেব এবার লোকগুলোর দিকে একটু বিরক্ত মুখ নিয়ে তাকালো।
ছেলেটিকে অজু করিয়ে তার পাশে বসিয়ে ইফতার করালো।
ইফতার আর নামাজ শেষে সেই দুই জন লোক ও ছেলেটিকে নিয়ে ইমাম সাহেব বস্তির দিকে আগালো। এক চালা টিনের ঘর, বাইরে দুয়ারে ছেলেটির বাবা বসে আছে।
সব কিছু শুনে বাবাটি তার ছেলের গালে থাপ্পড় মারার জন্যে হাত উঠায়।
হুজুর বাধা দিয়ে বলে- যথেষ্ট মার হইছে, ওরে আর মাইরেন না।
বাবাটি কাঁদতে কাঁদতে বলে- বিশ্বাস করেন হুজুর, আমার ছেলেরে আমি এই শিক্ষা দেই নাই। বেশ কয়দিন ধইরা আমার অসুখ। কাম কাজ নাই, পোলাপানগো ঠিক মত খাওন যোগাইতে পারি না। কিন্তু পোলায় চুরি করবো কুনোদিন ভাবি নাই। ও অমন পোলা না।
এসব কথা বলতে বলতে ছেলেটির বোন বেড়িয়ে আসে। মেয়েটির বয়স ৬ বছর হবে।
বোনটি তার ভাইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, কোমল স্বরে বলে- ভাই, জিলাপি আনোনাই??
তুমিনা আইজকা জিলাপি আনবা কইছো??
ভাইটির মুখে কোনো কথা নেই, চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
এর মধ্যেই আরেকটি ৪ বছরের ছোট্ট বোন ঘর থেকে ছুটে আসে-ভাই, ওরে না, ওরে না আমারে আগে দিবা, আমারে।
এই বলেই হাতটি বাড়িয়ে দেয়, ভাইয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে- ভাই তুমি একলা একলাই খাইয়া আইছো?
আমার জন্যে আনো নাইই??
ভাইটি এবার ছোট বোনের কথা শুনে কেঁদে ফেলে।
বোন দুইটা মন খারাপ করে ঘরে ঢুকে যায়। ছোট বোনটা মায়ের কোলে উঠে কান্নাজুড়ে দেয়।
মা আচল দিয়ে মুখ চেপে বাইরে বের হয়ে আসে, বলে।
মাইয়া দুইটা কয়দিন ধইরা জিলাপি খাইতে চাইতেছে, ওগো বাপের অসুখ। টেকা পয়সাও নাই, তাই পোলাটারে বাইরে পাঠাইছিলাম বাড়ি বাড়ি গিয়া কিছু সাহায্য চাইয়া আনতে। ছোট মানুষ বুঝে নাই, তাই ভুল করে ফেলছে। খাবার সামনে পাইয়া নিয়া নিছে, অরে আফনেরা মাফ কইরা দিয়েন।
এদিকে বাচ্চা মেয়েটা চোখ ভিজিয়ে মায়ের কাছে কেঁদে কেঁদে নালিশ করেই যাচ্ছে- মা, ভাই আইজকাও জিলাপি আনে নাই, ভাই আমাগো খালি মিছা কথা কয়!
ভাইটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে
হঠাৎ বোনটি খেয়াল করে ভাইয়ের শার্টের পকেট ভেজা!
ভাই তোমার পকেটে কি?
এই বলেই হাত ঢুকিয়ে দেয়, বের করে দেখে দুইটা জিলাপি!!
ভাই তুমি আনছো?
দুই বোনের মুখে হাসি ফুটে উঠে!
ভাইটি এবার ভয়ে মুখ চুপসে যায়!
লোকদুটির দিকে ভয়ার্ত ভাবে তাকিয়ে বলে- স্যার এইটা আমি চুরি করি নাই।
আশা ভরা চোখ নিয়ে হজুরের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে- বিশ্বাস করেন হজুর, এইটা আমার ভাগের জিলাপি, ইফতারির সময় আমার ভাগেরটা উঠাইয়া রাখছিলাম বোইন দুইটার জন্যে, সত্যি আমি চুরি করি নাই হজুর।
সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
হজুর ছেলেটারে টেনে বুকে জরিয়ে নেয় মাথাটা বুকে চেপে ধরে রেখে চোখের পানি ফেলতে থাকে,
লোক দুইটা এবার স্বশব্দে কাঁদতে থাকে,
কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটির বাবার কাছে এগিয়ে যায় বাবার হাতদুটি ধরে বলে-
ভুল হয়ে গেছে আমাদের, আপনার ছেলের গায়ে হাত তুলছি আমরা, মাফ করে দিয়েন আমাদের।
লোকটি পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে বাবার হাতে দিয়ে দেয়, বলে- এখানে যা আছে তা দিয়ে বাচ্চাদের কিছু ভালোমন্দ খাওয়ায়েন।
এক আবেগ ঘনময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়,
তারা লজ্জায় আর বেশিক্ষণ থাকতে পারলো না, বিদায় নিয়ে দ্রুত সবাই চলে এলো।
আমরা শুধু অপরাধীকে দেখি কিন্তু অপরাধের পেছনের অংশটুকু দেখি না, দেখতে চাই য়ো না।
আমরা চকের বাজার, বাবু বাজার, খানদানী, নামিদামি, নানা শাহী ভোজ দিয়ে ইফতার করতে যাই অথচ পাশের মানুষটি দু'মুঠো খাবারের জন্যে রাস্তায় বের় হয়েছে সেদিকে কারো কোনো দৃষ্টিপাত নেই।
নামিদামি রেস্টুরেন্ট গেলে আর ইভেন্ট করে সেল্ফি তুললে কি আমাদের নেকি দশ গুণ বেশি হয়ে যাবে??
কোন সমাজে বসবাস আমাদের??
আমরা ইফতার পার্টির নামদিয়ে পিকনিক করি, আমরা এলাকায় দোয়া মাহফিল করে এবাসায় ওবাসায় প্যাকেট বিলি করি, যাদের খাদ্য আছে তাদের মাঝেই চলে বিতরণ, অথচ যারা অভাবী তাদের ভাগ্যে এর কিছুই জোটে না।
আমরা পছন্দের জামা কিনতে গেলে এক দুইশ টাকা বেশি গেলেও কিছু যায় আসে না, কিন্তু ফকিরকে পাঁচ টাকার বেশি দিতে গেলে আত্মায় গিয়ে লাগে।
আমরা কি পারিনা ইফতারির কিছু খাবার ওদের দিতে?
আমরা কি পারিনা সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু টাকা ওদের দান করতে??
আমরা কি এতটাই ফকির ??
আসলে ফকির আমরা না, ফকির ওরাও না,ফকির হচ্ছে আমাদের মন-মানসিকতা!!
ফকির হচ্ছে আমাদের বিবেক।।

গ্রাম চাচি

মা মারা যাবার পর, এলাকার এক চাচী ফোন দিলো। এমন ভাবে হড়বড় করে কথা বলা শুরু করলো! প্রতিটা বাক্যের শেষে একবার "বুচ্ছনি বাবা" বলেবলে কথা। অথচ তার চেহারাও মনে করতে পারলাম না। শৈশবে হয়ত দুই একবার দেখে থাকবো। মাতৃ শোকে তখন আমার বেভুল অবস্থা। এমন অযাচিত সান্ত্বনার তোড়ে আমার মাথা ব্যথা হয়ে গেলো। গ্রামের মানুষের সাথে নরম হয়ে কথা বলতে হয়। না হয় গ্রামে ছড়ায়ে দিবে, স্যারের পোলা একটা জন্মের খারাপ। আমি প্রায় বিশ মিনিট একই কথার রিপিটেশন শোনলাম। এরপর বাধ্য হয়ে বললাম, চাচি রাখি? তিনি কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন
- আহারে কষ্টে পোলাটা কথাও কইতে পারতেছেনা। রাখো বাবা রাখো...।
তারপরেও অন্তত মিনিট পাঁচেক কী কী যেন বললেন।
ঘটনা সবে শুরু। এরপর প্রতিদিন মিস কল। ব্যাক করলেই
- বাবা মনটা ভালা নি তোমার? মা নাই তো কী হইছে, আমরাই এখন তোমার মা ...
ইচ্ছা হয় বলি, আমার বাপরে গিয়া বলে আসেন, আপনার বউ নাই, আমিই আপনার বউ, যত্তসব। কিন্তু মুখে বলি
- জ্বী অবশ্যই চাচী, অবশ্যই।
ডেইলি এই মিসকল যন্ত্রনা চললো কয়েকদিন। এরপর যখন ব্যক করি না, তখন শুরু হইলো কল দেওয়া। কেটে ব্যাক করি। একই প‌্যাচাল। ঘটনা গিয়ে এমন অবস্থায় দাঁড়াইলো, মনেমনে বললাম - মা তুমি কেন মরে গেলা! না মরলে তো এই যন্ত্রনা আমার পোহাইতে হইতো না।
প্রতি দিনের এই যন্ত্রনা আর নিতে পারলাম না। দিন পনেরো পরে কল ধরা, ব্যাক করা সব বন্ধ করে দিলাম। তিরিশ চল্লিশবার যে কেউ কাউরে কল দিতে পারে, এই অভিজ্ঞতাটা আমার তখনই হইলো। একদিন ঝাড়ি দেওয়ার জন্যই ব্যক করলাম
- চাচী বলেন
তিনি আজ সান্ত্বনার উপর গেলেন না। সরাসরি বললেন
- তোমার বইনে তো পাশ করছে।
অপরিচিত বইন পাশ করায় তেমন আনন্দ পাইলাম না। বরং নিজের কাছেই খারাপ লাগলো। মনে হইলো, আহারে তারা আমারে এত আপন মনে করে একটা সুসংবাদ দেওয়ার জন্য ফোন দিচ্ছে, অথচ আমি ফোনটা ধরতেছি না।
পরের দিন আবার মিস কল। ব্যাক করলাম। আজকে আবার শুরু হইলো সান্ত্বনা বাণী। আমি আজ আর "জ্বী চাচী, জ্বী চাচী" বলার ধৈর্য পাইলাম নাই। বিষয়টা খুব একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে তা হয়ত তিনি টের পেলেন। তাই সোজা বক্তব্য চলে আসলেন
- তোমার বইনেরে তো ভর্তী করাবো। যেই টাকা লাগবো, এইটা তোমার কাছে হাতের ময়লা।
সাথে বইটই মিলায়ে দেখা গেলো আজকাল হাতের ময়লার দামও হাজার দশেকে গিয়ে ঠেকেছে।
শিক্ষায় পাশে দাঁড়াতে আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু হীতে কতটা বিপরীত হবে তা ভেবেই আমি শংকিত। প্রায়ই ভাবি, সাহায্য সাধ্যমত করা দরকার। কিন্তু কিছুতেই যেন তারা টের না পায় বিষয়টার সাথে আমি জড়িত। মা মারা যাবার পর গ্রামেও যাওয়া হয় না, অমন সুযোগও করে উঠতে পারি না। তবে বিষয়টা মনে চেপে বসে আছে। শিক্ষায় পাশে দাঁড়ানো দরকার, অতি অবশ্যই দরকার...।

Sunday, September 18, 2016

আপনি থেকে তুমি

ক্লাস থেকে বেরিয়েই শীমুর কথা মনে পড়ে জনির। একটু আগেও মনে হচ্ছিলো আজ আর মনে হয় ক্লাসটা শেষ হবেনা। পন্চাশ মিনিটের ক্লাস যেনো যুগ যুগ ধরে চলছে। স্যারের কাজই হলো বিশ মিনিট লেটে আসা আর ক্লাসের সময় থেকে মেপে মেপে পুরো দশ মিনিট খেয়ে দুপুরের বাসটা যাতে কেউ ধরতে না পারে সেই ব্যবস্হা করে দেয়া। একেতো স্যারের পড়া কিছু বোঝা যায়না, তার উপর এমন বদরাগী মানুষ, বাস মিস হওয়ার কথা বলা মানে আরো বড় বিপদে পড়া।

একদিন স্যারের পড়ানোর ফাঁকে অনেকেই চুপ চাপ বের হয়ে যাচ্ছিলো বাস ধরবে বলে। ক্লাসের সবচেয়ে নরমসরম মেয়ে সুমনাও ভাবলো সে বের হয়ে বাসটা ধরবে। যেই না দরজা দিয়ে বের হবে অমনি স্যারের প্রশ্ন, কোথায় যাও? বাস ধরবো স্যার, অনেক সাহস করে বলে ফেলে সুমনা। বিচারের খড়গটা সুমনার উপরেই নেমে আসে, স্যারের অম্লমধুর বাক্য কানে বার বার বাজতে থাকে। সব অপমান আর লজ্জা নিয়ে চুপচাপ বসে পড়ে নিজের জায়গায়।

ঐ ঘটনাটা মনে না পড়লে হয়তো সুমনার মতো ঝুঁকি নেয়ার কথা ভাবতো জনি। শীমুর সাথে সম্পর্কটা ঠিক কোন পর্যায়ে আছে বুঝতে পারেনা মোটেও। কেমন করে কবে কোথায় শীমুকে প্রথম দেখেছিলো সেটাও মনে নেই। প্রেম করা নিয়ে কখনই তেমন ঝোঁক ছিলোনা নিজের ভিতর। কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি যেন বলে গেছে, প্রেমটা আসলে শারীরিক বাসনার মানসিক রূপ। কোন মেয়েকে যদি কোন ছেলে এসে বলে আমি তোমাকে চুমু খেতে চাই, তাহলে তার জন্য গালি এবং স্যান্ডেল অবধারিত। অথচ এই মেয়েটাকেই যদি বলা হয় তোমার চোখ দুটো অপূর্ব, তোমার হাসিটা একদম অন্যরকম, গলতে থাকে সব পাহাড়। প্রেম এসে ধরা দেয় অধরার কাছে। এইসব দার্শনিক কথাবার্তায় প্রেমের স্বকীয়তায় সন্দীহান হয়ে ওঠে জনি।

এগুলো ভেবে আর কোন লাভ নেই, অনেক আগেই শীমুর সাথে জড়িয়ে ফেলেছে নিজেকে। মেয়েটা খুব অদ্ভুত, একেবারে অন্যরকম। একটু সিরিয়াস কথা শুরু করলেই পুরো পাথর হয়ে যায়। এতো সংকোচ, লজ্জাই যদি তবে প্রেম করা কেন। প্রায় ছয় মাস হয়ে গেলো সম্পর্কের এখনও জনির সামনে সহজ হতে পারেনি। কোন একটা বিষয়ে নিজ থেকে কিছু বলেনা শীমু। ঘন্টার পর ঘন্টা পাশাপাশি বসে কেটে যায়। অপরাধী ঘাসগুলোর শিরচ্ছেদই হয় কেবল।

আজ একটা বিশেষ দিন, আজ জনিকে তুমি করে বলা শুরু করবে এমন কথাই দিয়েছিলো শীমু। কথা ছিলো ক্লাস শেষে এ বিষয়ে আলাপ হবে। সকালে অবশ্য আর কোন কথা হয়নি। দুপুরের বাসে করেই চলে যাবে নাকি থাকবে বিকাল পর্যন্ত সেটাও ঠিক করা হয়নি। নাহ, মেয়েটা এত গুটিয়ে রাখে কেনো নিজেকে। ক্লাসটা শেষ হতেই এক লাফে দুটো তিনটা করে সিঁড়ি ভেংগে নীচে নামে জনি। বাসটা এখনও ছেড়ে যায়নি, না না শীমু মনে হয় ওয়েট ই করবে ওর জন্য। তবুও ওর মনের মধ্যে একটা দ্বন্দ থেকেই যায়।

ক্যাফের সামনে পৌঁছাতেই সামনে দিয়ে বাসটা বেরিয়ে যায়। ক্যাফেতে ঢুকে শীমুর বান্ধবীর কাছে খোঁজ নেয় শীমু কোথায়। জানতে পারে এইমাত্র বাসে উঠে চলে গেলো শীমু। কেনো ভাইয়া ওর কি থাকার কথা ছিলো? মেয়েটার প্রশ্নটা শুনতে ভালো লাগেনা আর। বের হয়ে আসে কোন কথা না বলেই।

একটা চেয়ার টেনে নেয় জনি। আপনি আর তুমির মাঝামাঝি একটা ঝুলন্ত সাঁকোতে বসে চুপ করে তাকিয়ে থাকে স্মৃতির পর্দায় চলে যাওয়া বাসটার দিকে।

Wednesday, August 3, 2016

রাস্তায়


রাস্তায় খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়
সাঁই সাঁই বাস যায়
ধুঁকে ধুঁকে মাস যায়
বুকে পোড়া বাঁশি
তবু খালি খালি হাসি পায়
হাসি পেলে কাশি পায়
কাশি পেলে খালি পায়
ঘাসে ঘাসে উড়ে উড়ে
ভাঙা মন বাড়ি যায়
একা একা রাস্তায়
খুজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে যদি রাস্তায়

দোষ নেই নেতাদের
ক্রোশ নেই ক্রেতাদের
দমে দমে দাম বাড়ে
গান বাজে বেতারে
ধূলো জমে সেতারে
জলে ফেলে দে তারে
রক শোতে টক শোতে
আহা কত কেতারে
জোড়াজোড়ি যে পারে
বাড়ি সব ওপাড়ে
বাঁধ দিয়ে কাধ সেজে
চরকারে এপাড়ে
লোড নেই পেপারে
নেতা হতে কে পারে
কানাদের বায়না
কিনে দেয় আয়না যে তারে

রাস্তায় খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়
সাঁই সাঁই বাস যায়
ধুঁকে ধুঁকে মাস যায়
বুকে পোড়া বাঁশি
তবু খালি খালি হাসি পায়
হাসি পেলে কাশি পায়
কাশি পেলে খালি পায়
ঘাসে ঘাসে উড়ে উড়ে
ভাঙা মন বাড়ি যায়
একা একা রাস্তায়
খুজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে যদি রাস্তায়............[কথাঃ অর্নব, কন্ঠঃ অর্নব]